আওয়ামী লীগ ক্ষমা চায়নি, তাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

 আওয়ামী লীগ ক্ষমা চায়নি, তাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

বিনোদন প্রতিবেদক


ঢাকা


আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭: ০০


(সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়)


সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়

উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী



মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের বাইরে ‘দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান’, তরুণদের জন্য ‘তারুণ্যের উৎসব’সহ সাতটি অগ্রাধিকার কার্যক্রম ঘোষণা করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অগ্রাধিকারের তালিকা তুলে ধরেন তিনি।


সাতটি কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশন’, ‘তারুণ্যের উৎসব’, ‘দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান’, ‘ডিজিটাল ওরাল হিস্ট্রি প্রকল্প’, ‘বাংলা একাডেমি সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা ও গবেষণা প্রকল্প’, ‘জাতীয় জাদুঘরে আধুনিক ভিডিও প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা স্থাপন’ এবং ‘শো-ক্রিয়েটর ওয়ার্কশপ’।



সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা প্রথমে সাতটি অগ্রাধিকার কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এবং নবতরঙ্গ সৃষ্টি করবে ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশন’। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৮ জন শীর্ষ নির্মাতার মাধ্যমে ৮টি বিভাগে ৮টি ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির কর্মশালার আয়োজন করা হবে। কর্মশালার আউটপুট হিসেবে ৮টি মাঝারি দৈর্ঘ্যের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ৮টি নতুন থিয়েটার প্রোডাকশন তৈরি করা হবে। দেশের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে নজরুলের গানের একটি অ্যালবাম তৈরি করা হবে এবং এর প্রকাশনা উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কনসার্ট আয়োজন করা হবে। এই কনসার্টটি সারা দেশে সম্প্রচার করা হবে। তা ছাড়া ফটোগ্রাফি পেইন্টিং ও কার্টুন প্রদর্শনী করা হবে।


রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফারুকী বলেন, এর মাধ্যমে জুলাই–আগস্ট বিপ্লবের গল্প শোনানো হবে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের ১৫ বছরের নির্যাতন ও দুর্নীতির গল্প শোনানো হবে। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘তারুণ্যের উৎসব’ আয়োজন করবে বাংলাদেশ সরকার, যেখানে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান কর্মসূচি আয়োজন করবে মন্ত্রণালয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ডিজিটাল ওরাল হিস্ট্রি প্রকল্পের’ অংশ হিসেবে একটা বৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভিং করা হবে। ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশন’–এ যে লাখো মানুষ যুক্ত হয়েছে, তাদের অংশগ্রহণের ইতিহাস ভিডিও ক্যামেরায় রেকর্ড করে সংগ্রহ করা হবে। এই ভিডিওগুলো প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিটাল ওরাল হিস্ট্রির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, দেশের সব মানুষের কাছে আহ্বান জানানো হবে জুলাই অভ্যুত্থানে যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাঁরা যেন নিজের মুঠোফোনে সেসব ঘটনার বয়ান দেন। কীভাবে গুলি করেছে, কীভাবে মারা গেছেন, তাঁর বেদনার গল্পটা যেন বলেন। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরাও নিজেদের কথা বলবেন। কারা তাঁদের আক্রমণ করেছে, তাঁরা কীভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এসব বিষয় ভিডিও করে পাঠাবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এসব রেকর্ডিং আর্কাইভে সংরক্ষণ করবে। ফারুকী বলেন, অপরাধী তার অপরাধ মুছতে চায়। বিগত সরকারের সেসব অপরাধ মুছতে দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলেন জানানো হয়, বাংলা একাডেমি প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের জন্য সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা এবং বই প্রকাশ করবে। পাশাপাশি ৫০টি গবেষণা প্রবন্ধ ও ১০টি এক বছর মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি প্রদান করবে। জাতীয় জাদুঘরের অডিটরিয়ামে প্রক্ষেপণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হবে, যাতে স্টেজ পারফরম্যান্সসহ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র/ডকুমেন্টরি ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বছরব্যাপী প্রদর্শন করা যায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীদের জন্য শো-ক্রিয়েটর কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
ফারুকী বলেন, ‘বিপ্লবের পর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে “কালচারাল ব্রিজ” তৈরি করা। আমরা বলতে চাই, এই বাংলাদেশটা সবার। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা যাবে না। আমাদের সাংস্কৃতিক পলিসির মূলে থাকবে বহুজন, বহু ধর্ম, বহু ভাষা, সবার সংস্কৃতি এবং সবার সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর জন্য আমরা কাজ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এতকাল সংস্কৃতিকে সংকীর্ণ জায়গা থেকে দেখেছি। আমরা দেখেছি, সংস্কৃতি বলতে শুধু গান–বাজনা–নাচ–সিনেমা। তবে এসব সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল কিছু মানুষ। বর্তমান সরকার এসব সংকীর্ণ জায়গা থেকে উঠে আসবে।’

ফারুকী বলেন, সাতটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রাণের স্পন্দন হবে। জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরে ফারুকী বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো অভ্যুত্থান অস্বীকার করছে। তারা এখনো ক্ষমা চায়নি। তাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে। সাতটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক উন্মাদনা তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আতাউর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলীসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।



Post a Comment

Previous Post Next Post

Ads_1